পর্যটক বাংলাদেশ

আগুন পাহাড় সিলেট ভ্রমণ গাইড

আগুন পাহাড় সিলেট

আগুন পাহাড় সিলেট (Agun pahar horipur sylhet) জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের প্রকৃতিক এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি, যার সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে উৎলারপার গ্যাস ফিল্ডের পাশে অবস্থিত। আগুন পাহাড় পোড়া মাটির একটি উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের ছোট ছোট গর্তে সবসময় আগুন জ্বলতে দেখতে পাবেন। পাহাড়ের এসব গর্তে আগুনের স্পর্শ পেলে জ্বলে ওঠে আগুন। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীরদের সতর্কতার জন্য এখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রাখছেন।

স্থানীয় মানুষের কাছে আগুন পাহাড়ের ভিন্ন কাহিনি শোনা যায়। তারা দাবি করেন এই এলাকায় শাহ আহমদ আলী নামের একজন ধার্মীক পীর ছিলেন। তিনি এখানে পুকুর খননের কাজ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পীরের কথা অমান্য করে গ্যাস উত্তোলন করার উদ্যোগ দিলে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো এলাকা আগুনে জ্বলতে থাকে। এরপর স্থানীয়রা পীর সাহেবের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

বিষ্ময়কর আগুন পাহাড় বর্তমানে একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিনতি হয়েছে। পাহাড়ে আগুন জ্বলার এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। আগুন পাহাড়ের চূড়ায় উঠা বেশ কষ্টকর, বাচ্চা ও মহিলারা সর্তকতার সাথে উপরে উঠবেন।

আগুন পাহাড়ের ইতিহাস ও রহস্য

১৯৫৫ সালে পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড সিলেটের হরিপুর এই স্থানে প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পায়। গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপ খনন শুরু করলে গ্যাসের উচ্চচাপের জন্য এখানে বড় বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিশাল একটি পুকুরের মতো গর্ত সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে আশেপাশে ছোট টিলার পাহাড় গুলোর মধ্য দিয়ে গ্যাস নির্গত হয়।

আগুন পাহাড় সিলেট যাওয়ার উপায়

রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, আব্দুল্লাহপুর, ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে লন্ডন এক্সপ্রেস, মামুন পরিবহন, বিলাস পরিবহন, হানিফ পরিবহন সহ সিলেটগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে সিলেট যেতে পারবেন। জনপ্রতি নন-এসি ৮০০ টাকা, এসি ১,১০০ টাকা, স্লিপার বাস ১,৫০০ টাকা। যেতে সময় লাগবে ৬-৭ ঘন্টা।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সিলেট যেতে পারবেন। ভাড়া ৪১০ থেকে ১,৪৬৫ টাকা। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রা, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফ্লাইটে করে সিলেট যেতে পারবেন। ভাড়া ৪,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত।

সিলেট শহরের আম্বরখানা পয়েন্ট সিএনজি স্টেশন থেকে রিজার্ভ সিএনজি করে আগুন পাহাড় ঘুরে আসতে পারবেন। রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। আপনি আগুন পাহাড় সহ রিজার্ভ সিএনজি করে লালাখাল, জাফলং, শ্রীপুর চা বাগান, আদুরী ঝর্ণা, তামাবিল বর্ডার, জৈন্তাপুর পাহাড় সহ আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো একসাথে ঘুরে আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

আগুন পাহাড়ের আশেপাশে থাকার জন্য হোটেল বা গেস্ট হাউজ নেই। অধিকাংশ পর্যটক একদিনের ট্যুরে ঘুরে আবার সিলেট শহরে গিয়ে রাত্রিযাপন করে। সিলেট শহরে থাকার জন্য আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, দরগা গেইট, উপশহর এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে। ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

সিলেট শহরের জিন্দাবাজার এলাকায় পানসী রেস্টুরেন্ট, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট, পালকি রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। আগুন পাহাড়ের পাশে খাবার জন্য টং দোকান আছে। সেখান থেকে চা, পানি, বিস্কুট সহ হালকা খাবার খেতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top