শ্রীপুর চা বাগান সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। জাফলং তামাবিল বর্ডার ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে এই চা বাগান আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলায় সবুজ চা বাগান ও মেঘালয় যেকোনো পর্যটকে মুগ্ধ করবে।
চা বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে আপনি উঁচু-নিচু সবুজ গালিচার মধ্যে আছেন। যেদিক আপনার দৃষ্টি যাবে দেখতে পাবেন সবুজের সমারহ। চা বাগানের উঁচু টিলার উপর দাড়িয়ে খুব কাছে থেকে মেঘালয় পাহাড় ও ঝর্ণা দেখতে পাবেন। শ্রীপুর চা-বাগানে বর্তমানে চা গাছের সংখ্যা কম থাকায় নতুন চা গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
এই চা বাগানের উঁচু টিলার উপর দাঁড়ালে বাংলাদেশ ও ভারতের মোবাইল নেটওয়ার্ক সহজে পাওয়া যায়। চা বাগানের পাশেই রয়েছে শ্রীপুর পিকনিক স্পট এবং একটু সামনে রাংপানি পর্যটন স্পট। আপনি এখান থেকে অল্প সময়ে তিনটি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন।

শ্রীপুর চা বাগান প্রবেশের সময়সূচী
শ্রীপুর চা বাগান সিলেট সপ্তাহের সাতদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বিনামূল্যে চা বাগানে প্রবেশ করতে পারবেন।
শ্রীপুর চা বাগানে কি কি দেখবেন
- উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলায় সবুজ চা বাগান, লাল কাঁদা মাটি, দিগন্তে মেঘালয় উঁচু পাহাড় ও ঝর্ণা।
- চা গাছ রোপণ, পরিচর্যা থেকে চা পাতা তোলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখতে পাবেন (মার্চ-মে মাসে চা পাতা তোলার দৃশ্য দেখতে পাবেন)।
- ভ্যালি গার্ডেন বোর্ডিং স্কুল থেকে সম্পূর্ণ উপত্যকা ও চা বাগানের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারবেন।
- চা শ্রমিকদের (অধিকাংশ নারী) জীবনযাত্রা, স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
- চা বাগানের মধ্যে সুন্দর সুন্দর স্পষ্টে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও করতে পারবেন।
শ্রীপুর চা বাগান কিভাবে যাবেন
শ্রীপুর চা বাগানে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে সিলেট আসতে হবে। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানে খুব সহজে সিলেট যেতে পারবেন।
বাসে ঢাকা থেকে সিলেটঃ ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী বা ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে মামুন পরিবহন, হানিফ পরিবহন, এনা পরিবহন, বিলাস পরিবহন, লন্ডন এক্সপ্রেস, সোহাগ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন সহ সিলেটগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে সরাসরি সিলেট যেতে পারবেন। যেতে সময় লাগবে ৫-৬ ঘন্টা, ভাড়া নন-এসি ৮০০ টাকা, এসি ১,১০০ টাকা এবং স্লিপার ১,৫০০ টাকা।
ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেটঃ ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে উপবন এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সিলেট যায়। সিট ভেদে ভাড়া ৪১০-১,৪৬৫ টাকা। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাবেন। পারাবত এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার।
বিমানে ঢাকা থেকে সিলেটঃ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সরাসরি বিমানে যেতে পারবেন। প্রতিদিন ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সহ বেশ কয়েকটি বিমান সিলেট যাতায়াত করে। বিমান ভাড়া সিট ক্লাস ভেদে ৩৯০০-৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। যেতে সময় লাগে প্রায় ৫০ মিনিট।
সিলেট শহর থেকে শ্রীপুর চা বাগান যাওয়ার উপায়
সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল, বন্দরবাজার বা শিবগঞ্জ এলাকা থেকে জাফলং বা জৈন্তাপুরগামী বাসে শ্রীপুর বাজার নেমে যাবেন। জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ৮০ টাকা। এরপর শ্রীপুর বাজার থেকে হাঁটে বা সিএনজি করে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে চা বাগান যেতে পারবেন।
এছাড়া সিলেট আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে রিজার্ভ সিএনজি করে সরাসরি শ্রীপুর চা বাগান সহ আশেপাশের পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখে আসতে পারবেন। রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া ২,০০০-২,৫০০ টাকা (দামাদামি করে নিবেন)। সিএনজিতে ৫-৬ জন সহজে যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
শ্রীপুর চা বাগানের আশেপাশে থাকার জন্য তেমন হোটেল-মোটেল নেই। কারণ অধিকাংশ পর্যটকগণ সিলেট থেকে দিনে ঘুরে এসে সিলেট শহরে ফিরে আসেন। তবে জাফলং ও জৈন্তাপুর এলাকায় সাধারণ মানের গেস্টহাউস আছে। রাতে থাকার জন্য সিলেট শহর সুবিধাজনক। সিলেট শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট আছে।
সিলেট দরগাহ গেট, আম্বরখানা, উপশহর ও জিন্দাবাজার এলাকায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও ভালো মানের হোটেল আছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী হোটেল বেছে নিতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
শ্রীপুর চা বাগানের প্রবেশ পথে হালকা খাবার খাওয়ার জন্য কয়েকটি ছোট টং দোকান আছে। সেখান থেকে চা, বিস্কুট সহ হালকা খাবার খেতে পারবেন। পূর্ণাঙ্গ খাবার খেতে শ্রীপুর বাজার বা জৈন্তাপুর বাজারে গিয়ে স্থানীয় রেস্তোরাঁ গুলোতে সাধারণ মানের খাবার খেতে পারেন।
ভালো মানের খাবার খেতে চাইলে সিলেট শহর বা জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন রেস্তোরাঁ গুলোতে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে পারেন। সিলেট শহরের সেরা পানসী ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের খাবার অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।
শ্রীপুর চা বাগানের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান
শ্রীপুর চা বাগান ঘুরতে গেলে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। এর মধ্যে শ্রীপুর পিকনিক স্পট, রাংপানি, শ্রীপুর ঝর্ণা, জাফলং, মায়াবী ঝর্ণা, লালাখাল, তামাবিল বর্ডার উল্লেখযোগ্য।
প্রয়োজনীয় টিপস ও পরামর্শ
- পাহাড় ও চা বাগানে হাঁটতে আরামদায়ক জুতা পরিধান করুন।
- রোদে ছাড়া ও বৃষ্টিতে রেইনকোট সাথে রাখুন।
- চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় আদিবাসীদের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিবেন।
- ট্যুরিস্ট স্পটে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না।
- বর্ডার সীমান্ত অতিক্রম করবেন না।
- একদিনে সবগুলো পর্যটন স্পট ঘুরতে সকাল ৭টার আগে বের হবেন এবং সন্ধ্যার আগে সীমান্তবর্তী পর্যটন স্পট থেকে চলে আসবেন।
- বাংলাদেশের সকল দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে এবং বিস্তারিত তথ্য জানতে “পর্যটক বাংলাদেশ” ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।


