লোভাছড়া সিলেটের (Lovachora Sylhet) কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নে অবস্থিত জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। লোভাছড়া একটি চা বাগান, যার নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম লোভাছড়া। খাসিয়া-জৈন্তা সবুজ পাহাড় ও লোভাছড়ার স্বচ্ছ শীতল জলধারা এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
লোভাছড়া নদীর তীরে ব্রিটিশ আমলে ১৮৩৯ একর জায়গায় উপর ইংরেজি মালিকানায় গড়ে ওঠা লোভাছড়া চা বাগান। চা-বাগানের মধ্যে পিকনিক স্পট ও লালাখাল চা বাগান অবস্থিত। লোভাছড়া চা বাগানের রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছ, প্রাকৃতিক লেক ও স্বচ্ছ শীতল জলের ঝর্ণা।
এছাড়া এখানে রয়েছে ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পুরনো ঝুলন্ত সেতু, খাসিয়া গ্রাম, সবুজ চা বাগান, প্রাকৃতিক লেক, স্বচ্ছ শীতল জলের ঝর্ণা, প্রাচীন দীঘি, মীরপিং শাহর মাজার, মোগল রাজা-রানির পুরাকীর্তি, পাথর কেয়ারি ও বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন। চোখে পড়বে লোভাছড়া নদীতে শ্রমিকদের পাথর উত্তোলনের দৃশ্য।
নীল আকাশ, সবুজ পাহাড় ও চা বাগান, নদী সব মিলিয়ে অপূর্ব সৌন্দর্য উপহার দিয়েছে লোভাছড়া। আপনি যদি খুব সকলে লোভাছড়া চা বাগান ঘুরতে বের হন, ভাগ্য ভালো থাকলে বন মোরগ, খরগোশ ও হরিণের দেখা পেয়ে যাবেন।
লোভাছড়া ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়
যেকোনো মৌসুমে লোভাছড়া ঘুরতে যেতে পারেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সবুজের লোভাছড়া অপূর্ব রূপ ধারণ করে। শীত মৌসুমে সকালে কুয়াশার বুকে চিরে সোনালী সূর্যের রশি যেকোনো পর্যটকের মন জয় করে।

লোভাছড়া কিভাবে যাবেন
লোভাছড়া যেতে প্রথমে সিলেট যেতে হবে। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানে সরাসরি সিলেট যেতে পারবেন।
বাসে ঢাকা থেকে সিলেট
ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, ফকিরাপুল, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে লন্ডন এক্সপ্রেস, বিলাস পরিবহন, মামুন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, হানিফ পরিবহন, এনা পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন সহ সিলেটগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে সিলেট আসতে পারবেন। সময় লাগবে ৬-৭ ঘন্টা, ভাড়া নন-এসি ৮০০ টাকা, এসি ১,১০০ টাকা এবং স্লিপার ১,৫০০ টাকা।
ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট
ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট আসতে পারবেন। ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ৪১০ থেকে ১,৪৬৫ টাকা। পারাবত এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার। অনলাইনে সকাল ৮ টাই ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাবেন।
বিমানে ঢাকা থেকে সিলেট
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সরাসরি বিমানে যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে প্রতিদিন এয়ার অ্যাস্ট্রা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সহ বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা সিলেট যাতায়াত করে। বিমান ভাড়া সিট ক্লাস ভেদে ৩,৯৫০ থেকে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত। সময় লাগে ৫০ থেকে ৫৫ মিনিট।
সিলেট থেকে লোভাছড়া যাওয়ার উপায়
সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল বা হুমায়ুন চত্বর থেকে লোকাল সিএনজি করে ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে সোবানীঘাট যেতে হবে। সোবানীঘাট থেকে সরাসরি কানাইঘাট যাওয়ার বাস পাবেন। প্রতিদিন সকাল ০৮:০৫ মিনিটে প্রথম বাস ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা, যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টার মতো।
এছাড়া সিলেট থেকে জাফলংগামী বাসে চড়ে দরবস্ত নামক জায়গায় নেমে যাবেন। সেখান থেকে সিএনজি করে কানাইঘাট যেতে পারবেন।
কানাইঘাট পূর্ব বাজার নৌকা ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় লোভাছড়া যেতে পারবেন। কানাইঘাট থেকে লোভাছড়ার দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। প্রতি ২০ মিনিট পরপর লোভাছড়া মুলাগুল বাজারের উদ্দেশ্যে নৌকা ছেড়ে যায়। জনপ্রতি নৌকা ভাড়া ১০০ টাকা।
মুলাগুল বাজার থেকে লোভাছড়ার প্রকৃতিক সৌন্দর্য, সীমান্তবর্তী গ্রাম ও দর্শনীয় স্থান সমূহ উপভোগ করার জন্য ১ হাজার টাকা দিয়ে রিজার্ভ মোটরসাইকেল ভাড়া করে নিতে পারেন। মোটরসাইকেল ড্রাভার আপনাকে সকল দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখাবে। লোভাছড়া চা বাগানের মধ্যে প্রবেশ করতে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হবে।
কোথায় থাকবেন
লোভাছড়া বা কানাইঘাটে পর্যটকদের থাকার জন্য ভালো হোটেল বা গেস্ট হাউজ নেই। তাই পর্যটকগন দিনে ঘুরে দিনে সিলেট শহরে ফিরে এসে রাত্রিযাপন করতে পছন্দ করে। সিলেট শহরে থাকার জন্য দরগা গেইট, জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা পয়েন্ট, কদমতলী এলাকায় থাকার জন্য মানসম্পন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে।
এর মধ্যে হোটেল হিল টাউন, হোটেল দরগা গেইট, হোটেল কায়কোবাদ, হোটেল সুরমা, হোটেল গুলশান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেলে ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
লোভাছড়ায় খাওয়া-দাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই সাথে করে শুকনো খাবার নিয়ে যেতে পারেন। কানাইঘাট সদরে খাবার জন্য মোটামুটি মানের খাবার হোটেল আছে।
ভালো মানের খাবার খেতে সিলেট জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত পানসী রেস্টুরেন্ট, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট, পালকি রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন। এসব রেস্টুরেন্টে ২৯ প্রকার ভর্তা সহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার পাবেন।


