পর্যটক বাংলাদেশ

মায়াবী ঝর্ণা জাফলং, সিলেট

মায়াবী ঝর্ণা

মায়াবী ঝর্ণা বাংলাদেশ সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মায়াবী ঝর্ণার আরেকটি নাম সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে নৌকায় মায়াবী ঝর্ণায় যেতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

মায়াবী ঝর্ণার মোট ৩টি ধাপ আছে। ঝর্ণায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা খুব সহজে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উঠে ঝর্ণার শীতল পানিতে গাঁ ভেজায়। তৃতীয় ধাপে উঠতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তৃতীয় ধাপে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ, সুড়ঙ্গের মধ্যে অন্ধকার এবং পথের শেষ এখনো অজানা। পিচ্ছিল বড় বড় পাথরের পথ পেরিয়ে ঝর্ণার তিনটি ধাপে উঠতে হয়।

ঝর্ণার উপর উঠে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে যেকোনো পর্যটক মুগ্ধ হবে। তবে ঝর্ণার ধাপগুলোতে উঠতে অবশ্যই সাহস ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ঝর্নার নিচে পর্যটকদের বসে বিশ্রাম নেওয়া এবং ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কিটকট চেয়ার ও বড় ছাতার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রের দোকান। এসব দোকান গুলোতে ইন্ডিয়ান বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক, আচার, চকলেট, কাপড়চোপড়, রান্নার মশল্লাহ সহ নানা ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

মায়াবী ঝর্ণা যাবার উপযুক্ত সময়

বর্ষাকালে বাংলাদেশের সব ঝর্ণায় পানির পরিমান বেশি থাকে, তাই বর্ষাকালেই মায়াবী ঝর্ণায় যাবার উপযুক্ত সময়। জুলাই থেকে আগস্ট মাসে ঝর্ণায় বেশি পরিমান পানি থাকে। শীত বা গ্রীষ্মকালে পানি কমে যায়। অর্থাৎ মায়াবী ঝর্ণা ঘুরতে যাওয়ার উপায় সময় বর্ষাকাল বা তার ১-২ মাস পর।

মায়াবী ঝর্ণা কিভাবে যাবেন

মায়াবী ঝর্ণা দেখতে হলে প্রথমে সিলেট এবং সিলেট থেকে জাফলং আসতে হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে বাস ট্রেন ও বিমানে সরাসরি সিলেট আসতে পারবেন।

বাসে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে মামুন পরিবহন, লন্ডন এক্সপ্রেস, বিলাস পরিবহন, হানিফ পরিবহন, এনা পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন সহ সিলেটগামী যেকোনো বাসে চড়ে সরাসরি সিলেট আসতে পারবেন। সময় লাগবে ৬-৭ ঘন্টা, ভাড়া নন-এসি ৮০০ টাকা, এসি ১,১০০ টাকা এবং স্লিপার ১,৫০০ টাকা।

ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে উপবন এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট আসতে পারবেন। ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ৪১০-১,৪৬৫ টাকা। পারাবত এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাবেন।

বিমানে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সরাসরি বিমানে যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা সহ বেশ কয়েকটি বিমান সিলেট যাতায়াত করে। বিমান ভাড়া সিট ক্লাস ভেদে ৩৯৫০-৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত। সময় লাগে ৫৫ মিনিট।

সিলেট থেকে জাফলং

সিলেট শহর থেকে বাস সিএনজি মাইক্রোবাস সহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে জাফলং যাওয়া যায়। সিলেট শহরের শিবগঞ্জ থেকে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে জাফলং যেতে পারবেন। সিলেট আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে রিজার্ভ ২০০০-২৫০০ টাকা সিএনজি ভাড়া করে জাফলং যেতে পারবেন। এছাড়া ৪০০০-৫০০০ টাকা দিয়ে রিজার্ভ মাইক্রোবাস ভাড়া করে যেতে পারবেন। যাবার পথে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন।

জাফলং থেকে মায়াবী ঝর্ণা

জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে নৌকায় করে মায়াবী ঝর্ণায় যেতে হয়। একটি নৌকায় সর্বোচ্চ ১০ জন যেতে পারবেন। জনপ্রতি যাওয়া-আসা নৌকা ভাড়া ১০০ টাকা। যেতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

কোথায় থাকবেন

জাফলং থাকার জন্য মামার বাজার এলাকায় হোটেল প্যারিস, জাফলং ইন হোটেল সহ বেশ কয়েকটি গেস্ট হাউজ আছে। গেস্ট হাউজে থাকার জন্য পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া একটু দূরে জৈন্তিয়া হিল রিসোর্টে আরামদায়ক রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

জাফলং মায়াবী ঝর্ণা সহ আশেপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখে অধিকাংশ পর্যটক সিলেট শহরে ফিরে আসে। সিলেট শহরের শাহ জালাল মাজার গেইট, আম্বরখানা পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, উপশহর, কদমতলী, লামাবাজার, তালতলা এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী হোটেলে থাকতে পারবেন। জনপ্রতি ভাড়া ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত।

কোথায় খাবেন

মায়াবী ঝর্ণার পাশে সাধারণ মানের হোটেল খাবার হোটেল আছে। এছাড়া জাফলং জিরো পয়েন্ট সীমান্ত ভিউ রেস্টুরেন্ট, জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্ট, জাফলং পর্যটক রেস্টুরেন্ট সহ আরো বেশি কিছু খাবার হোটেল আছে। এসব রেস্টুরেন্ট থেকে সাদা ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, ভর্তা সহ নানা ধরনের খাবার খেতে পারবেন।

ভালো মানের খাবার খেতে সিলেট জিন্দাবাজার এলাকায় পানসী রেস্টুরেন্ট, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট ও পালকি রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

সিলেট থেকে জাফলং আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে লালাখাল, শ্রীপুর চা বাগান, তামাবিল, ডিবির হাওর শাপলার বিল, আদুরী ঝর্ণা, জাফলং জিরো পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top