ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে অবস্থিত মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রধান তীর্থস্থান। এটি মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও তার পুত্র সমাজ সংস্কারক শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে স্থানটি বিশেষ ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে।
১৭৯৯ সালে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে হরিচাঁদ ঠাকুর জন্ম গ্রহন করেন। তিনি একজন ধর্মগুরু ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিত। তিনি জাতিভেদ প্রথা, কুসংস্কার এবং অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মতবাদ “হরিনাম” কীর্তনের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপাসনা করা এবং সকল মানুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
বর্তমানে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক তীর্থস্থান। এখানে হরিচাঁদ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা যেমন তার বসতবাড়ি, মন্দির, ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও সমাধি রয়েছে। এছাড়া এখানে হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবন ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রদর্শন করা আছে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীদের কাছে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি একটি পবিত্র তীর্থস্থান। প্রত্যেক বছর হাজার হাজার ভক্ত এখানে তীর্থযাত্রা করেন এবং হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ২০২১ সালের ২৮ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই তীর্থস্থান পরিদর্শনের পর স্থানটি বিশেষ আলোচনায় আসে। হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিক উপলক্ষে এখানে ব্যাপক উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বারুণী মেলার তারিখ
আসন্ন বারুণী মেলা ও পুণ্যস্নান আগামী ৪ এপ্রিল ২০২৭ রবিবার অনুষ্ঠিত হবে (চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথি)।
ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি কিভাবে যাবেন
ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রথমে গোপালগঞ্জের কাশীয়ানী উপজেলা সদর যেতে হবে। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী বাসে চড়ে কাশীয়ানী উপজেলা সদর নেমে যাবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল থেকে গ্রিনলাইন পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, গোল্ডেন লাইন, ইমাদ পরিবহন, বিআরটিসি পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, কমফর্ট বাসে চড়ে গোপালগঞ্জ কাশীয়ানী নেমে যেতে পারবেন। এস/নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা।
এরপর কাশিয়ানী থানা বা তিলছড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে স্থানীয় যানবাহন যেমন ইজিবাইক বা সিএনজি করে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
থাকার জন্য গোপালগঞ্জ শহরে অনেক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে। এর মধ্যে দি মুসাফির ইন, হোটেল জিমি, হোটেল রানা, কাজী আবাসিক হোটেল, হোটেল রিফাত, পর্যটন হোটেল মধুমতী, পলাশ গেস্ট হাউজ উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেলে ৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
ভালো মানের খাবার খেতে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু রোডের পাশে লেক ভিউ ক্যাফে, ভুতের বাড়ি, এফএনএফ রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন।


