পর্যটক বাংলাদেশ

উলপুর জমিদার বাড়ি, গোপালগঞ্জ

উলপুর জমিদার বাড়ি

উলপুর জমিদার বাড়ি (Ulpur Zamindar Bari) গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ১২ নং উলপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। আনুমানিক ১৯০০ শতকের দিকে প্রায় ২০০ একর জায়গার উপর জমিদার প্রীতীশচন্দ্র বসু রায় চৌধুরী এই বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন একজন রাজকর্মচারী। ইতিহাস থেকে জানা যায়, উলপুর জমিদারের ১০০ ঘর শরিক ছিলেন।

জমিদার বাড়িতে নাটঘর, ছোট বাবুর বাড়ি, মেজ বাবুর বাড়ি ও শশান ছিল। এছাড়া বাড়িতে বেশ কয়েকটি বড় বড় দিঘী আছে। জমিদার বাড়ির দোতলা দালানসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এখনো টিকে আছে। এসব ভবনে বর্তমানে সাব-পোস্ট অফিস, তহশিল অফিস, পুরাতন ইউনিয়ন বোর্ড অফিস, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পিপি হাইস্কুলের ভবনটি এখনও ভালো আছে।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর জমিদার পরিবার কলকাতা চলে যান। তারপর থেকে জমিদার বাড়িটি সরকারি খাস খতিয়ানে চলে যায়। কথিত আছে, একসময় জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে জুতা খুলে ও ছাতি বন্ধ করে চলাফেরা করতে হতো।

উলপুর জমিদার বাড়ির বেশিরভাগ স্থাপনা অযত্নে অবহেলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। টিকে থাকা ভবনগুলোর স্থাপত্যশৈলী ও নয়নাভিরাম কারুকাজ দেখে এখনো দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হন।

উলপুর জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন

উলপুর জমিদার বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রথমে গোপালগঞ্জ জেলা সদর যেতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল থেকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, ইমাদ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন, গ্রিনলাইন পরিবহন, বিআরটিসি পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, কমফর্ট বাসে চড়ে গোপালগঞ্জ যেতে পারবেন। এস/নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা।

গোপালগঞ্জ সদর থেকে সিএনজি ভাড়া করে উলপুর জমিদার বাড়ি যেতে পারবেন। এছাড়া গোপালগঞ্জ কুয়াডাংগা বাস টার্মিনাল থেকে উলপুর গ্রামে নেমে স্থানীয় মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে জমিদার যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

গোপালগঞ্জ শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউস আছে। এর মধ্যে হোটেল জিমি, হোটেল রানা, হোটেল রিফাত, দি মুসাফির ইন, পর্যটন হোটেল মধুমতী, কাজী আবাসিক হোটেল, পলাশ গেস্ট হাউজ উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেলে ৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

গোপালগঞ্জ শহরে খাবার জন্য বাঙালি খাবার, চাইনিজ খাবার ও ফাস্টফুড খাবারের রেস্টুরেন্ট আছে। গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু রোডের পাশে লেক ভিউ ক্যাফে, ভুতের বাড়ি, এফএনএফ রেস্টুরেন্ট থেকে নিজের পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন।

আরো পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top