পর্যটক বাংলাদেশ

উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্র, সিলেট

উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্র

উৎমাছড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ঝর্ণা, দৃষ্টিনন্দন লোহার ব্রিজ, ধলাই নদীর শীতল স্বচ্ছ পানি পাথুরের উপর দিয়ে বহে যাওয়া এখানকার প্রধান আকর্ষণ। পাশেই ভারতের মেঘালয় উঁচু সবুজ পাহাড়ের নিসর্গ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পর্যটকরা পাথরের বুক চিরে বয়ে চলা শীতল পানিতে গা ভেজায়।

বর্ষাকালে উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্রে পানির পরিমান বৃদ্ধি পায়। পাথরে ভরা নদী, পাশে সবুজ পাহাড়, বর্ডার সীমান্ত ট্রেকিং ও ট্রাভেল ফটোগ্রাফির জন্য উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্র সেরা গন্তব্য।

উৎমাছড়া ঘুরে দেখে ৩০ মিনিটের পথ হেঁটে নতুন গন্তব্য তুরুংছড়া যেতে পারবেন। যেতে যেতে বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্র যাবার উপযুক্ত সময়

বর্ষাকাল বা তার ১-২ মাস পর উৎমাছড়ার আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। কারণ এসময় প্রচুর পানি থাকে এবং চারপাশের প্রকৃতি সবুজ থাকে। তাই বর্ষাকালে উৎমাছড়া যাবার উপযুক্ত সময়।

উৎমাছড়া পর্যটন কেন্দ্র কিভাবে যাবেন

উৎমাছড়া ও তুরংছড়া যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে সিলেট আসতে হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে বাস ট্রেন ও বিমানে সরাসরি সিলেট আসতে পারবেন।

বাসে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, মহাখালী, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে লন্ডন এক্সপ্রেস, মামুন পরিবহন, এনা পরিবহন, বিলাস পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন সহ সিলেটগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে সিলেট আসতে পারবেন। সময় লাগবে ৬-৭ ঘন্টা, ভাড়া নন-এসি ৮০০ টাকা, এসি ১,১০০ টাকা এবং স্লিপার ১,৫০০ টাকা।

ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট আসতে পারবেন। ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ৪১০ থেকে ১,৪৬৫ টাকা। পারাবত এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাবেন।

বিমানে ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সরাসরি বিমানে যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা সহ বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা সিলেট যাতায়াত করে। বিমান ভাড়া সিট ক্লাস ভেদে ৩,৯৫০ থেকে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত। সময় লাগে ৫৫ মিনিট।

সিলেট থেকে উৎমাছড়া ও তুরংছড়া

সিলেট শহরের আম্বরখানা পয়েন্ট সিএনজি স্টেশন থেকে সিএনজি করে দয়ারাবাজার যেতে হবে। জনপ্রতি ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা। দায়ারবাজার থেকে আবার সিএনজি করে চড়ারবাজার যেতে হবে। জনপ্রতি ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। চড়ারবাজার থেকে ১৫ মিনিটের পথ হেঁটে পৌঁছে যাবেন উৎমাছড়া। উৎমাছড়া থেকে ৩০-৪০ মিনিটের পথ হেঁটে পৌঁছে যাবেন তুরংছড়া।

এছাড়া সিলেট আম্বরখানা পয়েন্ট সিএনজি স্টেশন থেকে রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া করে একদিনে উৎমাছড়া ও তুরংছড়া এবং সাদা পাথর পর্যটন স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন। রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া ২,০০০-২,৫০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

উৎমাছড়া ও তুরংছড়া ঘুরতে যাওয়া অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনে সিলেট শহরে ফিরে আসেন। সিলেট শহরের থাকার জন্য আম্বরখানা পয়েন্ট, দরগাহ গেইট, উপশহর, লালাবাজার, জিন্দাবাজার, কদমতলী এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে। ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

উৎমাছড়া খাবার জন্য অস্থায়ী ভাতের হোটেল ও শুকনো খাবারের দোকান আছে। এখান থেকে সাদা ভাত, মাছ, ডাল, মাংস, ভর্তা দিয়ে কম খরচে খেতে পারবেন। উৎমাছড়ার ভাইরাল গরম গরম সিংড়া অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।

ভালো মানের খাবার খেতে সিলেট জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত পানসী রেস্টুরেন্ট, পালকি রেস্টুরেন্ট ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট বিখ্যাত। এখান থেকে পছন্দের সুস্বাদু খাবার খেতে পারবেন। এসব রেস্টুরেন্ট থেকে অবশ্যই ভর্তার স্বাদ নিতে ভুল করবেন না।

উৎমাছড়া ভ্রমণ পরামর্শ ও সতর্কতা

  • উৎমাছড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় তাই সন্ধ্যার আগে ফিরে আসবেন।
  • সীমান্তবর্তী এলাকায় নিদিষ্ট সীমানা কাঁটাতার অতিক্রম করবেন না।
  • গাড়ি ভাড়া, খাওয়া-দাওয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার সময় অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন।
  • উৎমাছড়া পিচ্ছিল পাথরের উপর দিয়ে সাবধানে চলাচল ও গোসল করবেন।
  • স্থানীয় মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
  • পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।
  • কম খরচে ঘুরতে গ্রুপ করে ঘুরতে পারেন।
  • ভালো গ্রিপের জুতা গামছা রেইনকোট/ছাতা কালো চশমা সাথে নিয়ে যাবেন।
  • সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।

সিলেটের আরো দর্শনীয় স্থান

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top